Header Ads

সহীহ বুখারীঃ কিতাবুস সালাতঃ এক হাতের আঙুলসমূহ অপর হাতের আঙুলসমূহের মধ্যে প্রবেশ করানো।

 باب تَشْبِيكِ الأَصَابِعِ فِي الْمَسْجِدِ وَغَيْرِهِ


পরিচ্ছেদ: মসজিদ ও মসজিদের বাইরে এক হাতের আঙুলসমূহ অপর হাতের আঙুলসমূহের মধ্যে প্রবেশ করানো।
حَدَّثَنَا حَامِدُ بْنُ عُمَرَ، عَنْ بِشْرٍ، حَدَّثَنَا عَاصِمٌ، حَدَّثَنَا وَاقِدٌ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَوِ ابْنِ عَمْرٍو شَبَّكَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَصَابِعَهُ‏.
وَقَالَ عَاصِمُ بْنُ عَلِيٍّ حَدَّثَنَا عَاصِمُ بْنُ مُحَمَّدٍ، سَمِعْتُ هَذَا الْحَدِيثَ، مِنْ أَبِي فَلَمْ أَحْفَظْهُ، فَقَوَّمَهُ لِي وَاقِدٌ عَنْ أَبِيهِ، قَالَ سَمِعْتُ أَبِي وَهُوَ، يَقُولُ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ يَا عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرٍو، كَيْفَ بِكَ إِذَا بَقِيتَ فِي حُثَالَةٍ مِنَ النَّاسِ بِهَذَا ‏"‏‏.‏
অনুবাদ: হযরত ইবনে ওমর অথবা ইবনে আমর (রা.) বলেন, আল্লাহর নবী (সা.) আঙুলগুলো একটির মধ্যে আরেকটি প্রবেশ করিয়ে দিয়ে দুই হাত একত্রিত করলেন।

বর্ণনান্তরে আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেন, হে আব্দুল্লাহ ইবনে আমর! যখন তুমি ময়লা-আবর্জনাসদৃশ তথা অসৎ ব্যক্তিদের মধ্যে থাকবে, তখন তোমার অবস্থা কি হবে? এরকম (অর্থা)ৎ তিনি এক হাতের আঙুলসমূহ অপর হাতের আঙুলসমূহের মাঝে প্রবেশ করিয়ে বিষয়টি স্পষ্ট করে দিলেন)
হাদীসের সামঞ্জস্য: শিরোনামের সাথে হাদীসের সামঞ্জস্য شَبَّكَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَصَابِعَهُ -এর সাথে।
হাদীসের পুনরাবৃত্তি: হাদীসটি বুখারী শরীফে ৬৯ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে।
حَدَّثَنَا خَلاَّدُ بْنُ يَحْيَى، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ جَدِّهِ، عَنْ أَبِي مُوسَى، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ إِنَّ الْمُؤْمِنَ لِلْمُؤْمِنِ كَالْبُنْيَانِ، يَشُدُّ بَعْضُهُ بَعْضًا ‏"‏‏.‏ وَشَبَّكَ أَصَابِعَهُ‏.‏
অনুবাদ: হযরত আবু মূসা (রা.) বর্ণনা করেন, আল্লাহর নবী (সা.) বলেছেন, একজন মুসলমান আরেকজন মুসলমানের জন্য ইমারত স্বরূপ। তারা একে অপরকে শক্তিশালী করে। এই বলে তিনি নিজের আঙ্গুলগুলো একটির মধ্যে আরেকটি প্রবেশ করিয়ে একত্রিত করলেন।
হাদীসের সামঞ্জস্য: শিরোনামের সাথে হাদীসের সামঞ্জস্য وَشَبَّكَ أَصَابِعَهُ-এর সাথে।
হাদীসের পুনরাবৃত্তি: হাদীসটি বুখারী শরীফে ৬৯, ৩৩১, ৮৯০ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে।
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ، قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ شُمَيْلٍ، أَخْبَرَنَا ابْنُ عَوْنٍ، عَنِ ابْنِ سِيرِينَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ صَلَّى بِنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِحْدَى صَلاَتَىِ الْعَشِيِّ ـ قَالَ ابْنُ سِيرِينَ سَمَّاهَا أَبُو هُرَيْرَةَ وَلَكِنْ نَسِيتُ أَنَا ـ قَالَ فَصَلَّى بِنَا رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ سَلَّمَ، فَقَامَ إِلَى خَشَبَةٍ مَعْرُوضَةٍ فِي الْمَسْجِدِ فَاتَّكَأَ عَلَيْهَا، كَأَنَّهُ غَضْبَانُ، وَوَضَعَ يَدَهُ الْيُمْنَى عَلَى الْيُسْرَى، وَشَبَّكَ بَيْنَ أَصَابِعِهِ، وَوَضَعَ خَدَّهُ الأَيْمَنَ عَلَى ظَهْرِ كَفِّهِ الْيُسْرَى، وَخَرَجَتِ السَّرَعَانُ مِنْ أَبْوَابِ الْمَسْجِدِ فَقَالُوا قَصُرَتِ الصَّلاَةُ‏.‏ وَفِي الْقَوْمِ أَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ، فَهَابَا أَنْ يُكَلِّمَاهُ، وَفِي الْقَوْمِ رَجُلٌ فِي يَدَيْهِ طُولٌ يُقَالُ لَهُ ذُو الْيَدَيْنِ قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَنَسِيتَ أَمْ قَصُرَتِ الصَّلاَةُ قَالَ ‏"‏ لَمْ أَنْسَ، وَلَمْ تُقْصَرْ ‏"‏‏.‏ فَقَالَ ‏"‏ أَكَمَا يَقُولُ ذُو الْيَدَيْنِ ‏"‏‏.‏ فَقَالُوا نَعَمْ‏.‏ فَتَقَدَّمَ فَصَلَّى مَا تَرَكَ، ثُمَّ سَلَّمَ، ثُمَّ كَبَّرَ وَسَجَدَ مِثْلَ سُجُودِهِ أَوْ أَطْوَلَ، ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ وَكَبَّرَ، ثُمَّ كَبَّرَ وَسَجَدَ مِثْلَ سُجُودِهِ أَوْ أَطْوَلَ، ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ وَكَبَّرَ‏.‏ فَرُبَّمَا سَأَلُوهُ ثُمَّ سَلَّمَ فَيَقُولُ نُبِّئْتُ أَنَّ عِمْرَانَ بْنَ حُصَيْنٍ قَالَ ثُمَّ سَلَّمَ‏.‏
অনুবাদ: হযরত আবু হুরাইরা (রা.) বলেন, রাসূল (সা.) একবার আমাদেরকে যুহর বা আসরের কোনো এক নামায আদায় করালেন। বর্ণনাকারী বলেন, আবু হুরাইরা তার নাম বলেছিলেন। কিন্তু আমি তা ভুলে গেছি। আবু হুরাইরা বলেন, তিনি আমাদেরকে দুই রাকায়াত আদায় করিয়ে সালাম ফিরালেন। তারপর তিনি মসিজদে ফেলে রাখা একটি কাঠের কাছে গিয়ে তাতে হেলান দিয়ে দাঁড়ালেন। মনে হল তিনি রাগানি¦ত। সে সময় তিনি নিজের ডান হাত বাঁম হাতের ওপর রেখে একত্রিত করলেন এবং নিজের বাঁম হাতের তালু ডান দিকের গালে রাখলেন। অস্থির চিত্তের লোকজন মসজিদের দরজা দিয়ে বের হয়েছিলেন। সাহাবায়ে কেরাম বললেন, নামায কি কম করা হয়েছে। লোকজনের মধ্যে আবু বকর ও ওমর ছিলেন। কিন্তু তারা তাঁকে কিছু জিজ্ঞেস করতে ভয় পাচ্ছিলেন। লোকজন মধ্যে দীর্ঘ হাতাওয়ালা একজন ছিলেন। তাকে যুল ইয়াদাইন (দীর্ঘ হাতওয়ালা) বলা হতো। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি ভুলে গেছেন না নামায কম করা হয়েছে? তিনি বলেন, আমার ধারণা অনুযায়ী আমি ভুলে যাইনি এবং নামায কম করা হয়নি। তিনি লোকজনকে প্রশ্ন করলেন, যুল ইয়াদাইন যা বলছে তা কি ঠিক? লোকজন বললো, জী হ্যাঁ। তারপর তিনি অগ্রসর হয়ে ছুটে যাওয়া নামায সমাধা শেষ করে সালাম ফিরালেন। তারপর তাকবীর বলে পূর্বৈর সিজদার মতো বা তার চেয়ে দীর্ঘ সিজদা করলেন। তারপর মাথা তুললেন এবং তাকবীর বললেন। তারপর তাকবীর বলে পূর্বের ন্যায় বা তার চেয়ে দীর্ঘ সিজদা করলেন। তারপর তিনি মাথা তুলে তাকবীর বললেন। এরপর লোকজন ইবনে সীরীনকে প্রশ্ন করলো, তারপর কি তিনি সালাম ফিরিয়ে ছিলেন? তিনি বলেন, ইমরান ইবনে হুসাইন আমাকে জানিয়েছেন যে, তারপর তিনি সালাম ফিরিয়ে ছিলেন।
হাদীসের সামঞ্জস্য: শিরোনামের সাথে হাদীসের সামঞ্জস্য وَشَبَّكَ أَصَابِعَهُ‏-এর সাথে।
হাদীসের পুনরাবৃত্তি: হাদীসটি বুখারী শরীফে ৬৯, ৯৯, ১৬৩, ১৬৪, ৮৯৪, ১০৭৭ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে।
শিরোনামের উদ্দেশ্য: تشبيك বলা হয় এক হাতের আঙ্গুলসমূহ অপর হাতের আঙ্গুলসমূহের মধ্যে প্রবেশ করানো। ইমাম বুখারী এর বৈধতা বর্ণনা করতে চান।  শাহ ওয়ালিউল্লাহ (র.) বলেন- غرضه اثبات جواز ذلك الخ অর্থাৎ তাশবীকের বৈধতা বর্ণনা করা উদ্দেশ্য। শায়খুল হিন্দ (র.)ও প্রায় একই কথা বলেছেন। তিনি বলেন-جنوح البخاري الي جوازه في غير الصلوة الخ ইমাম বুখারীর উদ্দেশ্য হলো নামাজের বাইরে তাশবীক করার বৈধতা বর্ণনা করা। - ফয়যুল জারী
প্রশ্ন: কোনো রেওয়ায়েতে تشبيك-এর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। যেমন ইমাম তিরমিযী এ বিষয়ে স্বতন্ত্র্য শিরোনাম কায়েম করে হযরত কা’ব বিন উজরা হতে হাদীস বর্ণনা করেছেন-
ان رسول الله (ص) قال اذا توضأ احدكم فاحسن وضوئه ثم خرج عامدا الي المسجد فلا يشبكن بين اصابعه فانه في صلوة
রাসূল (সা.) ইরশাদ করেছেন যখন তোমাদের কেউ উত্তমরূপে অজু করে মসজিদের উদ্দেশ্যে ঘর হতে বের হয় তাহলে সে যেন এক হাতের আঙুলসমূহ অপর হাতের আঙুলসমূহের মধ্যে প্রবেশ না করায়। কেননা, সে নামাজের হুকুমে রয়েছে।
অপর হাদীসে আছে- اذا صلي احدكم فلا يشبكن بين اصابعه فان التشبيك من الشيطان
এর দ্বারা বুঝা গেল যে, تشبيك জায়েয নেই।
দ্বন্দ্ব নিরসন: তাশবীক যদি নিরর্থক বা তামাশাচ্ছলে করে- চাই মসজিদের মধ্যে হোক বা মসজিদের বাইরে, তেমনিভাবে নামাযরত অবস্থায় হোক তা জায়েয হবে না। কেননা, এর দ্বারা অলসতা সৃষ্টি হয় এবং ঘুম আসতে থাকে। এ কারণে তার অনুমতি নেই।
পক্ষান্তরে যদি কোনো ভালো উদ্দেশ্যের জন্য হয়, যেমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ কথা বুঝানোর জন্য করে তাহলে তা নিঃসন্দেহে জায়েয হবে। এবং এ তাশবীক মসজিদ-গায়রে মসজিদ উভয় অবস্থাতেই জায়েয। কারণ তা নবী করীম (সা.) বর্ণিত আছে। فلا تعارض و لا اشكال
ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ
নামাজের মধ্যে কথা বলার বিধান: এ সম্পর্কে ইমামগণের মতামত নিম্নরূপ-
১.    হানাফীগণের মাযহাব এবং হাম্বলীগণের প্রাধান্য কওল হলো নামাজের মধ্যে কথা বলা ইচ্ছাকৃত হোক বা ভুলবশত}ঃ, অল্প হোক বা বেশী, বিধান জানা অবস্থায় হোক বা না জানা অবস্থায় হোক, নামাজের ভুল সংশোধনের জন্য হোক বা অন্য কারণে হোক, সর্বাবস্থায় তা নাজায়েয এবং এর দ্বারা নামায ফাসেদ হয়ে যাবে।
২.    শাফেয়ীগণ বলেন, কথা যদি ভুলক্রমে হয় এবং সংক্ষিপ্ত হয় তাহলে তা নামায ভঙ্গকারী হবে না।
৩.    মালেকীগণের মতে অল্প কথা যদি নামায সংশোধনের জন্য হয় তাহলে তা জায়েয, এবং এর দ্বারা নামায ফাসেদ হবে না।
দলীল: শাফেয়ী ও মালেকীগণ যুল-ইয়াদাইনের এ হাদীস দ্বারা দলীল দিয়ে থাকেন। কারণ এতে নবী করীম (সা.) ও সাহাবায়ে কেরাম সকলেরই কথা বলা প্রমাণিত।
হানাফীগণ বলেন, যুল ইয়াদাইনের হাদীস ঐ যুগের জন্য যখন নামাজে কথা বলার অনুমতি ছিল। পরবর্তিতে এ অনুমতি রহিত হয়ে যায়। যেমন হযরত যায়েদ বিন আরকাম (রা.)-এর হাদীসে রয়েছে-
قال كنا نتكلم في الصلوة يكلم الرجل صاحبه وهو الي جنبه في الصلوة حتي نزلت وقوموا لله قانتين فامرنا بالسكوت ونهينا عن الكلام
হানাফীগণ বলে নামাজে কথা বলার বিধান এ সমস্ত হাদীস দ্বারা রহিত হয়ে গেছে।
বিস্তারিত আলোচনা সামনে আসবে, যেখানে ইমাম বুখারী স্বতন্ত্র্য শিরোনাম -باب ما ينهي من الكلام في الصلاة কায়েম করবেন। (বুখারী আউয়াল, ১৬০ পৃষ্ঠা)
যা-হোক নামাজে কথা যদি ইচ্ছাকৃত এবং নামায সংশোধনের জন্য না হয় তাহলে সর্বসম্মতিক্রমে তা নামায ভঙ্গকারী।  

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.